শহীদুল ইসলাম শরীফ,
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর এখন উৎসবের জনপদ। ইছামতি নদীর তীরে ৫৩২ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আবারও শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী মা রক্ষা কালী পূজা ও ঐতিহাসিক কালী মেলা। বাংলা ৯০১ সন থেকে চলে আসা এই উৎসব আজ কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে এক বিশাল সর্বজনীন মিলনমেলায়।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটেছে। বিশেষ করে ভারত ও নেপাল থেকেও অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন এই তীর্থস্থানে। বুধবার ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাঠাবলি’ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধীরেন চন্দ্র দাসের তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি পাঠা এখানে মানত হিসেবে বলি দেওয়া হয়। এছাড়া কবুতরসহ নানা উপচার নিয়ে ভক্তরা মায়ের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ইছামতি নদীর দুই পাড় ঘেঁষে বসা এই মেলা চলে চার দিনেরও বেশি সময় ধরে। মেলায় গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের ছোঁয়া স্পষ্ট। কী নেই এখানে?
লোহার তৈরি দা, বটি, কোদাল থেকে শুরু করে বাঁশের তৈরি কুলা-ডালা ও চালুন। নাগরদোলা, হর্স রেস এবং ছোট রেলগাড়িতে চড়ে আনন্দ উল্লাসে মেতেছে শিশুরা। বাহারি মিষ্টির দোকান আর রঙিন সব কসমেটিকসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
পূজা উপলক্ষে রাতভর চলে দেহতত্ত্ব, শ্যামা সঙ্গীত ও ভক্তিগীতি। মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী রতন চন্দ্র দাস জানান, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মেলাটি একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে। চার লক্ষাধিক মানুষের এই সমাগম সামলাতে ৪ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ্ নিশ্চিত করেছেন যে, মেলায় যেকোনো ধরনের অশ্লীলতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেখরনগরের এই মেলা আমাদের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ঐতিহ্যের এই ধারা যেন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।