মো আবদুল করিম সোহাগ,
ঢাকা।
আজ ১০ মে আন্তর্জাতিক মা দিবস। মায়ের কোনও তুলনা হয়না। মায়ের মতো স্পেশাল আর আপনও কেউ হয় না। যার মা নেই সেই বোঝে মা হারানোর কষ্ট।
আবির আহমেদ, বাবার বাড়ি কুমিল্লার মোহনপুর উপজেলায় হলেও জন্ম ঢাকায়। বাবা সিলেটে পাথরের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার কারণে তিনি পরিবারসহ সিলেটের ছাতকে স্থায়ীভাবে চলে আসেন-তখন আবিরের বয়স মাত্র ৬ মাস। ছাতকেই আবিরের বেড়ে ওঠা।
শুরুটা ছিল খুবই সুন্দর-হাসি-খুশিতে ভরা একটি সুখের পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সুখের জীবন ভেঙে যায়। আবিরের
বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই মুহূর্ত থেকেই আবিরের পরিবারের জীবনে নেমে আসে এক গভীর দুঃখের ছায়া।
কিন্তু আবিরের মা হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন ছাতকের একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট এবং ওই এলাকার সর্বপ্রথম দিকের মেকআপ আর্টিস্টদের একজন। হাজারো কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি একাই লড়াই করে আবিরের চার ভাইবোনকে (এক ভাই, তিন বোন) মানুষ করেছেন।
আবির ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাজ দেখে দেখে মেকআপ আর্ট এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই ভালোবাসা থেকেই আজ আবির একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছে-আর তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব, তার গুরু আবিরের নিজের মা।
বিশ্ব মা দিবস, আর এই দিনটিকে ঘিরে নিজের অনুভূতির কথা শেয়ার করলেন মেকআপ আর্টিস্ট আবির আহমেদ।
মায়ের আদর ভালবাসা স্নেহে বড় হওয়া আবিরের গল্প শুধু মাকেই ঘিরে।
আবিরের-মা তাকে পড়ালেখা করা, মানুষের মতো মানুষ করার লক্ষ্য নিয়ে ছোট থেকে বড় করেছেন।
আজ আমি আবির আহমেদ যে কাজগুলো করছি বা করার স্বপ্ন দেখছি, তার সবটুকুর শেকড় লুকিয়ে আছে মায়ের প্রেরণায়। মা আমার কাছে শুধু একজন জন্মদাত্রী নন, তিনি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মেন্টর এবং পরম নির্ভরযোগ্য এক আশ্রয়। মা দিবসের এই বিশেষ লগ্নে আমি গর্বের সাথে বলতে চাই, আমার প্রতিটি কাজের মায়ের দোয়া মিশে আছে। তিনি আমার ছায়া, আমার সাহস এবং আমার এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র শক্তি।