1. live@www.deshsokal.com : দেশ সকাল : দেশ সকাল
  2. info@www.deshsokal.com : দেশ সকাল :
অচেনা জায়গায় প্রথম রাতে ঘুম আসে না? কারণ জানলে অবাক হবেন! - দেশ সকাল
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

অচেনা জায়গায় প্রথম রাতে ঘুম আসে না? কারণ জানলে অবাক হবেন!

দেশ সকাল :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

অচেনা জায়গায় প্রথম রাতে ঘুম আসে না? কারণ জানলে অবাক হবেন!
ব্যস্ততার ফাঁকে একটু বিশ্রাম পেতে অনেকেই বেড়াতে যান। কারো বাসায় কিংবা কোনো রিসোর্টে। দুটো দিন অন্য কোথাও কাটিয়ে আসলে মনটা সতেজ হবে। এমনটাই আশা। বিপত্তি বাধে রাতে ঘুমাতে গেলে। নতুন জায়গায় গিয়ে কিছুতেই দু চোখের পাতা এক হয় না। সামান্য শব্দেও বারবার ঘুম ভেঙে যায়। আপনি কি এমন সমস্যায় ভুগছেন? এই তালিকায় কিন্তু আপনি একা নন। আরও অনেকে আছেন।

বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হল ‘ফার্স্ট নাইট এফেক্ট’। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার সলজবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এর নেপথ্যে থাকা আসল কারণ খুঁজে বের করেছেন। চলুন এই গবেষণায় কী কারণ পাওয়া গেছে জেনে নিই-

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অচেনা পরিবেশে ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ সজাগ থাকে। অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্কের কিছু অনুভূতি জেগে থাকা অবস্থার চেয়েও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অতি-সক্রিয়তাই আমাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন করে রাখে। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না।

গবেষকরা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা মাপতে ‘ইলেক্ট্রো এনসেফালোগ্রাফি’ বা ইইজি (EEG) মেশিন ব্যবহার করেছিলেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অপরিচিত পরিবেশে শুলে মস্তিষ্ক পারিপার্শ্বিক শব্দ বা সামান্য নড়াচড়াকে বিপদ হিসেবে গণ্য করে। সেই কারণেই গভীর ঘুমের বদলে মস্তিষ্ক হালকা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর একটি মজার পর্যবেক্ষণ চালান গবেষক দল। প্রথম রাতে তাদের অচেনা জায়গায় নিজের মতো ঘুমোতে দেওয়া হয়। দেখা যায়, জায়গাটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের মস্তিষ্ক বেশ বেগ পাচ্ছে এবং ঘুমের মান যথেষ্ট খারাপ হয়েছে।

দ্বিতীয় রাতে তাদের ঘুমের মধ্যে খুব মৃদু স্বরে অতি-পরিচিত বা বাড়ির মানুষের গলার স্বর শোনানো হয়। আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায়, অচেনা জায়গা হলেও পরিচিত আওয়াজ শোনার ফলে তাদের ঘুম আগের চেয়ে অনেক বেশি গাঢ় হয়েছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক তখন নিজেকে নিরাপদ মনে করছে।

তৃতীয় রাতে গবেষকরা ঘুমের মধ্যে অপরিচিত মানুষের গলায় তাদের নাম ধরে ডাকেন অথবা অদ্ভুত শব্দ করেন। এতে দেখা যায়, শব্দের তীব্রতা খুব কম হলেও অপরিচিত হওয়ার কারণে তাদের ঘুম সঙ্গে সঙ্গে পাতলা হয়ে গিয়েছিল। মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ সজাগ হয়ে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি মূলত মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। আদিম যুগে বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ ঘুমের মধ্যেও সজাগ থাকার এই কৌশল রপ্ত করেছিল। জিনের মাধ্যমে সেই প্রাচীন অভ্যাস আজও আমাদের শরীরে বয়ে চলেছে, যা অচেনা স্থানে গেলে প্রকট হয়ে ওঠে।

সুতরাং, নতুন জায়গায় ঘুম না হওয়া কোনো অসুখ নয়, বরং আপনার মস্তিষ্কের বাড়তি সতর্কতারই প্রমাণ। তবে এই সমস্যা কাটানোর জন্য সঙ্গে নিজের বালিশ বা পরিচিত সুগন্ধি রাখতে পারেন। এতে মস্তিষ্ক জায়গাটিকে নিরাপদ ভেবে দ্রুত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে সাহায্য করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।