হাবিবুর রহমান সুজন।
দুর্ভোগে ৩৫ হাজার মানুষ, বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
পোগলা ইউনিয়ন এর দশদার থেকে শুনই পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ ও কাদায় পরিণত হওয়া এই সড়ক এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন এক আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে পানি জমে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। ফলে ছোট যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার অধিকাংশ অংশেই পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ মিয়ার সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আগে যেখানে ১০ মিনিটে যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক কষ্ট হয়। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ঠিকমতো যাতায়াত করতে পারছে না।”
তিনি আরও বলেন,
“এই বর্ষাকালে যদি দ্রুত রাস্তার কাজ না করা হয়, তাহলে পুরো সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তখন মানুষের দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন চালকরাও এই পথে আসতে চান না। এতে করে কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম সংকট।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।