মো আবদুল করিম সোহাগ
ঢাকা
একজন মানুষের পরিচয় শুধু তার নাম বা অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সেই পরিচয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ এক সংগ্রামের গল্প। আন্তর্জাতিক মা দিবসে আমরা তার মাকে নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদের জানান আমার সেই গল্পের প্রধান কারিগর আমার মা —*আনজুয়ারা হাসান আন্না** এবং অপরদিকে আমার বাবা আমার শক্তি । আজ আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছি, নিজেকে একজন প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি; কিন্তু এই দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি বাঁকে আমার মা ছিলেন এক উজ্জ্বল বাতিঘর।
কর্মব্যস্ত এক পথপ্রদর্শক মা
আমার জন্মের পর থেকেই আমি মাকে দেখেছি এক অক্লান্ত লড়াকু মানুষ হিসেবে। কর্মজীবন ও সংসার সামলানোর যে একনিষ্ঠতা তাঁর মধ্যে ছিল, তা আমাকে ছোটবেলা থেকেই অনুপ্রাণিত করেছে। ব্র্যাক স্কুলের শিশুদের পড়ানো থেকে শুরু করে একজন স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে পথচলা এবং বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান*এসিআই (ACI)* তে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত থাকা—মায়ের এই দীর্ঘ কর্মময় জীবনই আমাকে শিখিয়েছে থেমে না থাকার গুরুত্ব।
বিশ্বজয়ের অনুপ্রেরণা**
আমি যখন*মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫ (Miss Peace International 2025)** এর মুকুট মাথায় পরেছি, সেই গৌরবময় মুহূর্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল আমার মায়ের। তিনি সবসময় আমাকে শিখিয়েছেন, “মানুষ কী বলল তাতে কান না দিয়ে নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখো। প্রতিযোগিতায় হার-জিত বড় কথা নয়, অংশগ্রহণ করাই মুখ্য।” মায়ের এই অমোঘ বাণী আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে, আমাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাহস দিয়েছে।*প্রকৌশলী থেকে উদ্যোক্তা: লক্ষ্য যখন জনসেবা**
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে আমি এখন নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছি। আমার স্বপ্ন শুধু নিজের ক্যারিয়ার নয়, বরং দেশের নারীদের জন্য কিছু করা। অসহায় মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার যে বোধ, তা আমি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি। মা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে একজন মানুষের শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়াতে হয়।
মা-ই আমার অন্তহীন শক্তি –
আজ আমি নিলিমা হাসান মোহনা যে সামাজিক কাজগুলো করছি বা করার স্বপ্ন দেখছি, তার সবটুকুর শেকড় লুকিয়ে আছে মায়ের প্রেরণায়। মা আমার কাছে শুধু একজন জন্মদাত্রী নন, তিনি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মেন্টর এবং পরম নির্ভরযোগ্য এক আশ্রয়। মা দিবসের এই বিশেষ লগ্নে আমি গর্বের সাথে বলতে চাই, আমার প্রতিটি অর্জনে মায়ের দোয়া মিশে আছে। তিনি আমার ছায়া, আমার সাহস এবং আমার এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র শক্তি।
মায়ের দেখানো পথ ধরেই আমি আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখতে চাই। পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, আর আমার মায়ের জন্য রইল অন্তহীন ভালোবাসা।