1. live@www.deshsokal.com : দেশ সকাল : দেশ সকাল
  2. info@www.deshsokal.com : দেশ সকাল :
“সাজেককে উপজেলা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্থানীয়রা” - দেশ সকাল
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
🎉 সিলেটের শিবগঞ্জে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্ভরতার নাম “পালকি রেস্টুরেন্ট” বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পলাশ মণি দাসের ‘ফুটবল যুদ্ধ’ জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার, র‌্যাম্প মডেল তারকা বুলবুল টুম্পার জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাম্মী তুলতুল দুই তরুণ উদ্যোক্তার নতুন যাত্রা: শাড়ির ব্যবসায় জুবাইদ হোসেন জিয়ান ও ইখতিয়ার উদ্দিন ঐতিহ্যবাহী বাংলা রান্নার বিশ্বজয়ী দূত হাসিনা আনছারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমি এই চরিত্রের জন্য তিন সপ্তাহ ধরে কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ ছিলাম না: ইরফান রহমান মিডিয়ার এই জার্নিটা এত সহজ ছিল না আমার: নেয়ামত উল্লাহ রিয়াদ মডেলিং এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে ছড়িয়ে দিতে চাই: সৌরভ ফটিকছড়িবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক এমপি প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম

“সাজেককে উপজেলা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্থানীয়রা”

দেশ সকাল :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

হাবিবুর রহমান সুজন

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ সাজেক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত হলেও, এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখনো রয়ে গেছে চরম অবহেলা ও বঞ্চনার মধ্যে। পর্যটনের আলোয় আলোকিত সাজেকের বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এখানে বসবাসকারী প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ সাজেককে উপজেলা ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, উপজেলা ঘোষণা ছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাজেকে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। একটি সাধারণ অসুস্থতা নিয়েও রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দীঘিনালা কিংবা খাগড়াছড়ি যেতে হয়। জরুরি রোগী পরিবহনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। মাতৃসেবা, শিশু চিকিৎসা কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা এখানে প্রায় অনুপস্থিত।

শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেক এলাকায় এখনো মানসম্মত বিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। ফলে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষকদের সংকটও একটি বড় সমস্যা।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সুফলও সঠিকভাবে পৌঁছায় না সাধারণ মানুষের কাছে। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি সংক্রান্ত সেবা, কৃষি সহায়তা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো মৌলিক সেবা পেতেও সাধারণ মানুষকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুব সমাজের নাছির উদ্দীন পিন্টু বলেন,

“সাজেক শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি হাজারো মানুষের বসবাসের স্থান। অথচ এখানকার মানুষ আজও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত। সাজেককে উপজেলা ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

নাছির উদ্দীন পিন্টু আরও বলেন,

“সাজেক দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনমান এখনো খুবই পিছিয়ে। সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজেককে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাজেককে উপজেলা ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে। একইসঙ্গে পর্যটন ব্যবস্থাপনাও আরও আধুনিক ও সুসংগঠিত হবে।

সাজেকবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সরকার যেন দ্রুত সাজেককে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। কারণ, পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষের কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প আজ উন্নয়নের বাস্তব পদক্ষেপ দাবি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।