1. live@www.deshsokal.com : দেশ সকাল : দেশ সকাল
  2. info@www.deshsokal.com : দেশ সকাল :
দুর্গম পথ, অনিশ্চিত জীবন: সাজেকে জরুরি হাসপাতালের দাবি এলাকাবাসীর। - দেশ সকাল
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
🎉 সিলেটের শিবগঞ্জে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্ভরতার নাম “পালকি রেস্টুরেন্ট” বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পলাশ মণি দাসের ‘ফুটবল যুদ্ধ’ জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার, র‌্যাম্প মডেল তারকা বুলবুল টুম্পার জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাম্মী তুলতুল দুই তরুণ উদ্যোক্তার নতুন যাত্রা: শাড়ির ব্যবসায় জুবাইদ হোসেন জিয়ান ও ইখতিয়ার উদ্দিন ঐতিহ্যবাহী বাংলা রান্নার বিশ্বজয়ী দূত হাসিনা আনছারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমি এই চরিত্রের জন্য তিন সপ্তাহ ধরে কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ ছিলাম না: ইরফান রহমান মিডিয়ার এই জার্নিটা এত সহজ ছিল না আমার: নেয়ামত উল্লাহ রিয়াদ মডেলিং এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে ছড়িয়ে দিতে চাই: সৌরভ ফটিকছড়িবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক এমপি প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম

দুর্গম পথ, অনিশ্চিত জীবন: সাজেকে জরুরি হাসপাতালের দাবি এলাকাবাসীর।

দেশ সকাল :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুল ইসলাম, সাজেক থেকে।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘মেঘের রাজ্য’ সাজেক ভ্যালি—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এই পাহাড়ি জনপদে নেই একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ফলে সামান্য অসুস্থতা থেকে শুরু করে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য এটি এখন এক নীরব সংকট।

সাজেক এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসা সুবিধা বলতে কার্যত কিছুই নেই। কোনো রোগী অসুস্থ হলে প্রথমে বাঘাইহাট জোন সদর থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু গুরুতর রোগী বা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়। এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় বিপদ।

সাজেক থেকে জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৬৮ কিলোমিটার, আর বাঘাইহাট থেকে তা প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত যানবাহন এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনায় আহত পর্যটকদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার দুর্ঘটনায় দেশি-বিদেশি পর্যটক হতাহত হলেও যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পর্যটনের এত বড় কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবার এমন অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একটি হাসপাতাল থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।” একই সুর শোনা গেছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কণ্ঠেও। তাদের মতে, একটি আধুনিক হাসপাতাল শুধু মানুষের জীবন রক্ষা করবে না, বরং সাজেকের পর্যটন শিল্পকেও আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাজেকের মতো দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এতে দুর্ঘটনা বা হঠাৎ অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে এই সংকট সমাধানে প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ। সাজেকের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে উপরমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তাদের একটাই দাবি—“মেঘের রাজ্যে একটি হাসপাতাল চাই, এখনই চাই।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই স্বপ্নের পর্যটনকেন্দ্রই হয়ে উঠতে পারে এক নীরব মৃত্যুফাঁদ। এখন সময় এসেছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।