হাবিবুর রহমান সুজন
খাগড়াছড়ির মহামনি মানিকছড়িতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির আবহে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ, পার্বত্য জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজু এবং মারমা সম্প্রদায়ের আনন্দঘন পানিখেলা। বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
সকালের প্রথম প্রহরেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নববর্ষ বরণের আয়োজন। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গ্রামীণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এতে বাঙালি, মারমা, ত্রিপুরা, পাংখোয়া সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ফুল বিজু উপলক্ষে তরুণ-তরুণীরা ফুল দিয়ে সাজানো নানা প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। নদী-নালা ও ঝর্ণার জলে ফুল ভাসিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নেওয়া এবং ছোটদের মাঝে ভালোবাসা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটির তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানিখেলা ছিল দিনটির অন্যতম আকর্ষণ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবাই অংশ নেন এই আনন্দঘন খেলায়। একে অপরকে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে ফেলার প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়। পানিখেলার সময় হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, এমন আয়োজন শুধু উৎসব নয়, বরং পাহাড়ি ও বাঙালি সংস্কৃতির মিলনবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্প্রীতির অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই উৎসব ঘিরে ছিল লোকসংগীত, নৃত্য পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন এবং গ্রামীণ মেলার আবহ। সব মিলিয়ে মহামনি মানিকছড়ি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
উৎসব শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আগামীতেও অটুট থাকবে এবং পাহাড়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আরও বিকশিত হবে।