মোঃ মোস্তফা কামাল চৌধুরী,
জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ):
আমি মনে করি-গীত, বাদ্য ও নৃত্য এই তিনটির সমন্বয়ে যে ক্রিয়া সৃষ্টি হয় সেটাই সংগীত। সংগীতের সুমধুর সৌন্দর্য্য শ্রতিরস তথা সুরের অপুর্ব সুকলাকৌশলে মানুষের হৃদয়ের প্রেমভক্তি বিরহজ্বালা আশা নিরাশা আনন্দ বেদনাকে প্রশমিত এবং অন্তরকে সুপ্রসন্ন নির্মল তথা কলুষমুক্ত করে স্ব- বৈশিষ্ট্যকে সঠিক পথে চালিত করতে সক্ষম হয়। সেই জন্য সংগীতকে শ্রেস্টতম বিদ্যা বলা হয়ে থাকে। কাজেই আমাদের বাল্যকাল হতে সংগীত শিক্ষার্জন করা একান্তই বাঞ্চনীয়। তবে সংগীত কিভাবে মানব সমাজে বিস্তার লাভ করছে আজ পর্যন্ত তার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেকেরর মতে গুণী, ঋষি, আওলীয়া, দরবেশদের দ্বারা সংগীতের উৎপত্তি হয়েছে। আবার কারো কারো মতে প্রাচীনকালে আর্য্য জাতিরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে দেব দেবীর আরাধনা বা পূজার্চনা করত। এই সুত্র ধরেই সংগীতের উদ্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ধারনা মর্ত লোকে জীবন শুরু হওয়ার পর মানুষ ধীরে ধীরে কালাতীক্রম করতে সভ্যতার আলোক পেতে থাকে। পরস্পরের ভাবের আদান-প্রদান হতে থাকে। এ আবেগ প্রবন ভাবের আদান-প্রদান মুর্ত করে তুলতে চাহিদা অনুযায়ী সুরের আবির্ভাব ঘটে। এবং এই সুরই পরবর্তীতে সংগীতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই সংগীত থেকেই বিভিন্ন রাগের সৃষ্টি হয়েছে। যেমন রাগ সংগীত। তবে উপমহাদেশের রাগ সংগীত কেবল একটি রূপ বা একটি শ্রেণীতে সীমাবদ্ধ নয়। এবং মতভেদে একাধিকভাবে প্রকাশ লাভ করছে। যেমন ধ্রুপদ, ধামার, টপ্পা, ঠুমরী, গজল কাওয়ালী ইত্যাদি। বিভিন্ন সংগীতজ্ঞ ব্যক্তিদের তাদের অক্লান্ত সাধনায় রাগ সংগীতের স্থান পর্ণকুঠির হতে রাজদরবারে উন্নীত হয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে রাগ সংগীতজ্ঞ এবং সুরমম্রাট তানসেন যখন মিঞাকিমল্লার রাগের সুর তুলতেন সম্রাট আকবর ছন্দবেশে তার আসরে গিয়ে সেই সুর গভীরভাবে শ্রবণ করতেন। শুধু তাই নয় ঐতিহাসিক অধিবিদ্যা তথা সংগীতজ্ঞদের মতে খেয়াল সংগীতের শ্রষ্টা আলাউদ্দীন খিলজীর সভাগয়াক হয়রত আমীর খসরু। সংগীতের ইতিহাসের দেখা যায় যে নিয়ামত আলী খাঁ খেয়াল সংগীতের পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন। মোঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের দরবারে প্রসিদ্ধ বীণকার সদারঙ্গ এবং অদারঙ্গ এর দ্বারা খেয়াল সংগীত প্রচার হয়ে বিশেষ খ্যাতি লাভকরছিল। তবে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সংগীত চর্চা করা হয়ে থাকে। যেমন তার যন্ত্রের মধ্যে বীণা, সেতার, এসরাজ, বেহালা, তানপুরা উল্লেখযোগ্য। এই সব যন্ত্রের মাধ্যমেই সংগীত এবং কন্ঠ সাধনা করা হয়ে থাকে। পূর্বে হারমোনিয়াম বলে কোন বাদ্য যন্ত্র ছিল না। কেবল মাত্র তার যন্ত্রের মাধ্যমেই সংগীত চর্চা বা শিক্ষা গ্রহন করা হত। মানুষ যুগ যুগ ধরে নতুন নতুন আবিষ্কারের নেশায় মত্ত। কিভাবে সুর বা স্বরকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায় চলতে লাগল জোর চিন্তা ভাবনা ও কঠোর গবেষণা। অবশেষে, সফল হলেন জার্মানির “ডি” বেইন। তিনি ১৮৪০ সালে এক যন্ত্র আবিষ্কার করে তার নাম দিলেন হারমোনিয়াম। বাংলায় একে সুর লালিত্য বলা হয়। বর্তমান যুগে হারমোনিয়ামে গান গাওয়া বা শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা এবং উপযোগী হয়েছে। কারণ হারমোনিয়ামের পর্দায় আঙ্গুলি রেখে ব্লৌ টানলেই নির্দিষ্ট সুর বের হয়ে আসে। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলে গাইলেই হলো। বর্তমানে হারমোনিয়াম, গীটার, প্যাড, ড্রাম, কী বোর্ড, তবলাডুগি নাল, খোল, বাঁশী ইত্যাদি অনুসর্গ ছাড়া সংগীত অপূর্ণ থেকে যায়।