1. live@www.deshsokal.com : দেশ সকাল : দেশ সকাল
  2. info@www.deshsokal.com : দেশ সকাল :
শাওয়ালের ৬ রোজা: সব মাজহাবে কি সমান ফজিলতের? - দেশ সকাল
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
🎉 সিলেটের শিবগঞ্জে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্ভরতার নাম “পালকি রেস্টুরেন্ট” বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পলাশ মণি দাসের ‘ফুটবল যুদ্ধ’ জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার, র‌্যাম্প মডেল তারকা বুলবুল টুম্পার জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাম্মী তুলতুল দুই তরুণ উদ্যোক্তার নতুন যাত্রা: শাড়ির ব্যবসায় জুবাইদ হোসেন জিয়ান ও ইখতিয়ার উদ্দিন ঐতিহ্যবাহী বাংলা রান্নার বিশ্বজয়ী দূত হাসিনা আনছারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমি এই চরিত্রের জন্য তিন সপ্তাহ ধরে কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ ছিলাম না: ইরফান রহমান মিডিয়ার এই জার্নিটা এত সহজ ছিল না আমার: নেয়ামত উল্লাহ রিয়াদ মডেলিং এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে ছড়িয়ে দিতে চাই: সৌরভ ফটিকছড়িবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক এমপি প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম

শাওয়ালের ৬ রোজা: সব মাজহাবে কি সমান ফজিলতের?

দেশ সকাল :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক

শাওয়ালের ৬ রোজা: সব মাজহাবে কি সমান ফজিলতের?
রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা অনেক সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একাধিক সহিহ হাদিস দ্বারা এই আমলের ফজিলত প্রমাণিত। তবে এই রোজার হুকুম ও পালনের পদ্ধতি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর চার প্রসিদ্ধ মাজহাবের ইমামদের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। সচেতন মুমিনদের জন্য এই বৈচিত্র্যময় তথ্যগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।

ফজিলতের মূল ভিত্তি: সহিহ হাদিস
শাওয়ালের ছয় রোজার প্রধান দলিল হলো হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বর্ণিত হাদিস। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)

মাজহাবভেদে দৃষ্টিভঙ্গি
১. শাফিয়ি ও হাম্বলি মাজহাব
ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর মতে, শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা ‘মোস্তাহাব’ (পছন্দনীয়)। তাঁদের মতে, ঈদের পরদিন থেকে ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা উত্তম। তবে পুরো মাসের যেকোনো সময়ে রাখলেও সওয়াব অর্জিত হয়।

২. হানাফি মাজহাব
প্রাথমিক বর্ণনায় ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এই রোজার ব্যাপারে কিছুটা সতর্ক ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল- সাধারণ মানুষ একে রমজানের অংশ বা ‘ফরজ’ মনে করে নিতে পারে। তবে হানাফি মাজহাবের পরবর্তী ফকিহ ও ইমামগণ স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান যুগে এমন ভুল ধারণার অবকাশ নেই। তাই হানাফি ফিকহেও এটি ‘মোস্তাহাব’ ও উত্তম আমল। প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে শামি’ ও ‘হিদায়া’-তে একে নফল ইবাদত হিসেবে বিশেষভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।

৩. মালিকি মাজহাব
ইমাম মালিক (রহ.) তাঁর ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি মদিনার প্রথিতযশা আলেমদের এই রোজা রাখতে দেখেননি। তাঁর মূল আশঙ্কাও ছিল হানাফি ইমামের মতোই, মানুষ একে রমজানের বর্ধিত অংশ ভেবে ভুল করতে পারে। তবে পরবর্তী মালিকি স্কলাররা ব্যাখ্যা করেছেন, যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে নফল হিসেবে এটি পালন করেন, তাঁদের জন্য এটি অনেক সওয়াবের কাজ।

কেন এটি ‘সারা বছর’ রোজার সমান?
পবিত্র কোরআনের সুরা আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, একটি নেক কাজের সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। সেই হিসেবে এই রোজার গাণিতিক হিসাবটি হলো-
রমজানের ৩০টি রোজা (৩০×১০) = ৩০০ দিনের সওয়াব।
শাওয়ালের ৬টি রোজা (৬×১০) = ৬০ দিনের সওয়াব।
মোট = ৩৬০ দিন (অর্থাৎ পূর্ণ এক চান্দ্র বছর)।
সব মাজহাবের আলেমরা এই গাণিতিক হিসাবটি স্বীকার করেছেন।

যদিও প্রাচীন যুগে ইমামদের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম মতপার্থক্য ছিল, বর্তমানে বিশ্বের সকল মাজহাবের আলেমগণ একমত যে, শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোস্তাহাব আমল। যারা রমজানের ইবাদত কবুল হওয়ার চিহ্ন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় নিদর্শন। কারণ আল্লাহ কোনো বান্দার আমল কবুল করলে তাকে পরবর্তীতে আরও নেক কাজ করার তাওফিক দান করেন।

তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ১১৬৪; আল-মাজমু’ শরিহুল মুহাজ্জাব (শাফিয়ি); রদ্দুল মুহতার (হানাফি); মুয়াত্তা ইমাম মালিক; আল-মুগনি (হাম্বলি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।