হাবিবুর রহমান সুজন।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন কর্ণফুলী লেক। কর্ণফুলী নদী-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই লেক প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটনের এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পাহাড়, সবুজ বনানী আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে কর্ণফুলী লেক যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস।
কর্ণফুলী লেকের চারপাশজুড়ে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের সারি, যা দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তির ছোঁয়া দেয়। সকালবেলায় সূর্যের আলো যখন লেকের জলে পড়ে, তখন তার ঝিলমিল প্রতিফলন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হয়ে ওঠে এক অপার্থিব দৃশ্য। বিকেলের নরম আলো আর শীতল বাতাসে এই লেক যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে।
এই লেক শুধু সৌন্দর্যের আধারই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। মাছ ধরা, নৌকা চালানো এবং পর্যটনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা অর্থনৈতিক কার্যক্রম। বিশেষ করে স্থানীয় জেলেদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ।
পর্যটনের দিক থেকেও কর্ণফুলী লেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাঙামাটি অঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র এই লেক। প্রতিবছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভিড় করেন, লেক ভ্রমণ, নৌকা ভ্রমণ এবং আশেপাশের পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে।
তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পরিবেশ দূষণ, অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে লেকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। তাই প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়।
কর্ণফুলী লেক শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এর সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এই লেক হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।