ধর্ম ডেস্ক
নখ ও চুল কাটার পর তা কোথায় ফেলবেন?
আমরা নিয়মিত নখ ও চুল কাটি, কিন্তু কাটার পর সেগুলোর কী করা উচিত- এ বিষয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই এক ধরণের উদাসীনতা দেখা যায়। অথচ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে মানুষের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও শরীরের প্রতিটি অংশের মর্যাদার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নখ বা চুলের মতো ক্ষুদ্র অংশের বিষয়েও যে একটি আদব রয়েছে, তা আমাদের অনেকেরই অজানা।
নখ-চুল মাটিচাপা দেওয়া উত্তম
নখ, চুল বা শরীরের অতিরিক্ত পশম কাটার পর তা মাটিচাপা দেওয়া ইসলামের একটি চমৎকার শিষ্টাচার। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমল থেকে বিষয়টি প্রমাণিত। এটি একদিকে যেমন পরিচ্ছন্নতার সহায়ক, তেমনি কোনো কোনো আলেমের মতে, এটি অনিষ্ট থেকে বাঁচার একটি সতর্কতামূলক দিক হিসেবেও বিবেচিত। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থে একে ‘মোস্তাহাব’ বা পছন্দনীয় কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২৬১৭১, ২৬১৭৫
শহরে বা ফ্ল্যাটে থাকলে কী করবেন?
বর্তমান ব্যস্ত শহর জীবনে বা আধুনিক ফ্ল্যাটে অনেকের পক্ষেই নখ-চুল মাটিচাপা দেওয়ার সুযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে ইসলামি ফিকহের নির্দেশনা হলো- মাটিচাপা দেওয়ার সুযোগ না থাকলে বাসার ময়লার ঝুড়ি বা ডাস্টবিনে ফেলা যাবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন তা যত্রতত্র ছড়িয়ে না থাকে, যা পরিবেশের অস্বস্তি বা অপরিচ্ছন্নতার কারণ হতে পারে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৪১১; আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩৭১)
টয়লেটে ফেলা কি ঠিক?
সাধারণভাবে নখ বা চুল সরাসরি কমোডে বা টয়লেটে ফেলা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেহেতু মর্যাদাপূর্ণ, তাই তা অপবিত্র স্থানে নিক্ষেপ করা এই মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এছাড়া কারিগরি দিক থেকেও এটি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। (আলবাহরুর রায়েক: ৮/২০৪)
গোপনীয় পশম পরিষ্কারে বিশেষ সতর্কতা
শরীরের যেসব অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক (আওরাত), শরীর থেকে পৃথক হওয়ার পরও সেগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। অর্থাৎ, যেসব পশম জীবিত অবস্থায় অন্যের জন্য দেখা নাজায়েজ, কাটার পরও তা অন্যের জন্য দেখা শরিয়তসম্মত নয়। এক্ষেত্রে করণীয় হলো- গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে ফ্লাশের মাধ্যমে এগুলো অপসারণ করা যেতে পারে (যদিও এটি সর্বোত্তম পদ্ধতি নয়)। অন্যকোথাও ফেলতে চাইলে আলাদা কোনো কাগজ বা কাপড়ে পেঁচিয়ে ফেলা উচিত, যেন তা উন্মুক্ত না থাকে এবং অন্যের দৃষ্টিগোচর না হয়। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩২৯; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩৪১)
কেন আমরা এই আদবগুলো রক্ষা করব?
এই সামান্য নিয়মগুলো মেনে চলার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে-
মানুষ হিসেবে আল্লাহ আমাদের যে বিশেষ সম্মান দান করেছেন, এই আদবগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ। নখ বা চুল কাটার পর তার সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের রুচিবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতার পরিচয় দেয়। সুযোগ থাকলে মাটিচাপা দেওয়া, আর সুযোগ না থাকলে অন্তত সযত্নে নিরাপদ স্থানে ফেলাই একজন সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব। ছোট ছোট এই আদবগুলোর মাধ্যমেই একজন মুসলিমের জীবন হয় পরিপূর্ণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত।