মো আবদুল করিম সোহাগ,
ঢাকা।
মার্চ মাসকে বিশ্বব্যাপী ‘Myeloma Action Month’ হিসেবে পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০শে মার্চ ২০২৬, সোমবার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের আয়োজনে মাল্টিপল মায়েলোমা বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, বৈজ্ঞানিক বিষয়ক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ মনিরুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, রেসিডেন্ট ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মোছাব্বির। এই কর্মশালায় মাল্টিপল মায়েলোমা রোগের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী রোগ ব্যবস্থাপনা, রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, অটোলোগাস স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য চিকিৎসা কৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্টগণ বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, আধুনিক চিকিৎসা ও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে মাল্টিপল মায়েলোমা রোগীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং চিকিৎসার সাফল্য অনেকাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
কর্মশালায় প্যানেল আলোচনা ছাড়াও আকর্ষণীয় ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক কুইজ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের পুরষ্কৃত করা হয়। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ফারুক আহাম্মদ, হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. আমিন লুৎফুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ প্রমুখ। বক্তারা মাল্টিপল মায়েলোমা রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো, সকলের জন্য সমান চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ বলেন, “বাংলাদেশে মাল্টিপল মায়েলোমায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা চিকিৎসকদের মধ্যে রোগটির আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে চাই, যাতে রোগীরা আরও উন্নত সেবা পেতে পারেন।”
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।