1. live@www.deshsokal.com : দেশ সকাল : দেশ সকাল
  2. info@www.deshsokal.com : দেশ সকাল :
শান্তি ও সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: বাঘাইহাটের অনন্য দৃষ্টান্ত - দেশ সকাল
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

শান্তি ও সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: বাঘাইহাটের অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুল ইসলাম মানিক

বাংলাদেশের পার্বত্য জনপদের হৃদয়ে অবস্থিত বাঘাইহাট—একটি নাম, যা শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক। এখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, নেই ধর্ম-বর্ণের বিভাজন; আছে শুধু মিলেমিশে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রত্যয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাংখোয়া (পাংকু) ও ত্রিপুরা—এই ছয়টি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একসাথে বসবাস করে গড়ে তুলেছে এক অনন্য সামাজিক বন্ধন।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

বাঘাইহাটের ইতিহাস বহু পুরনো। পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বহু বছর আগে থেকেই বসবাস করে আসছে। ত্রিপুরা ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠী ছিল এই অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসী। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটে, যারা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাঘাইহাটে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একটি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজ। নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এখানকার মানুষ কখনো সম্প্রীতির বন্ধন ছিন্ন হতে দেয়নি। বরং প্রতিটি সংকটে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে—মানবতা সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ

বাঘাইহাটে ধর্মীয় উৎসব মানেই সবার উৎসব। ঈদে যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মুসলিমদের আনন্দে শরিক হয়, তেমনি দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা কিংবা বড়দিনে মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

গ্রামের কোনো বাড়িতে দুঃখ এলে তা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়—পুরো গ্রামের দুঃখ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কোনো সুখবর এলে সবাই মিলে তা উদযাপন করে। এই পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসাই বাঘাইহাটকে আলাদা করে তুলেছে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন

বাঘাইহাটের মানুষ শুধু সম্প্রীতির দৃষ্টান্তই নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এখানে একটি সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যুব সমাজ এখানে বিশেষভাবে সচেতন ও উদ্যমী। তারা মাদকবিরোধী কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক সহায়তামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে বাঘাইহাট ধীরে ধীরে একটি আদর্শ সমাজ হিসেবে গড়ে উঠছে।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

যদিও বাঘাইহাটের এই সম্প্রীতি একটি বড় শক্তি, তবুও আধুনিকতার চাপে অনেক সময় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বাইরের নেতিবাচক প্রভাব, সামাজিক বিভাজনের প্রচেষ্টা কিংবা অর্থনৈতিক বৈষম্য মাঝে মাঝে এই ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে।

তবে আশার কথা হলো—এখানকার মানুষ অত্যন্ত সচেতন। তারা জানে, ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই যেকোনো বিভেদ সৃষ্টিকারী অপচেষ্টাকে তারা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করে।

ভবিষ্যতের প্রত্যয়

বাঘাইহাট আজ শুধু একটি এলাকা নয়, এটি একটি বার্তা—যে বার্তা বলে, “ভিন্নতা নয়, ঐক্যই শক্তি।” এখানে বসবাসকারী ছয়টি জাতিগোষ্ঠী প্রমাণ করেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহনশীলতা থাকলে যেকোনো সমাজ শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হতে পারে।

জাহিদুল ইসলাম মানিকের মতো সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগ, লেখনী ও নেতৃত্ব এই সম্প্রীতির বার্তাকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশের সর্বত্র। তাদের প্রচেষ্টায় বাঘাইহাট একদিন হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের সম্প্রীতির মডেল।

উপসংহার

শান্তির সম্প্রীতিতে ভরা বাঘাইহাট আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, ধর্ম নয়—মানবতাই প্রধান পরিচয়। এই বন্ধন অটুট থাকুক, এই সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক সারাদেশে—এই প্রত্যাশাই সকলের।
“আমরা ভিন্ন, কিন্তু আমাদের হৃদয় এক—এই বিশ্বাসেই এগিয়ে চলেছে বাঘাইহাট।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।